ঢাকা | রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১

বৃথা জাকেরের তারকাখচিত ইনিংস, তীরে এসে ডুবল বাংলাদেশ

নট আউট ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৪ ২১:৫৫

পারলেন না জাকের আলি। গেটি ইমেজ পারলেন না জাকের আলি। গেটি ইমেজ

নট আউট ডেস্কঃ ব্যাটারদের দাপট দেখানো ব্যাটিংয়ে সিলেটে রান উৎসবই করে সফরকারী শ্রীলঙ্কা। তাসকিন, শরিফুলদের পিটিয়ে এদিন আগে ব্যাট করা শ্রীলঙ্কা গড়েছিল ২০৬ রানের পাহাড়। জবাবে দিতে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই হারায় খেই। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর দলে ফেরা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেন আশার সঞ্চার। এরপর জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবার খেলতে নামা জাকের রীতিমতো তোলেন ঝড়। তাতেই হারতে বসা ম্যাচে প্রাণ পায় বাংলাদেশ। তবে, শেষ ওভারে ১২ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি জাকেররা। তাতেই টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ৩ রানের জয় পায় শ্রীলঙ্কা। 

লঙ্কানদের ২০৬ রানের জবাব দিতে নামা বাংলাদেশ রানের খাতা খোলার আগেই হারায় ওপেনার লিটন দাসের উইকেট। এরপর সোম্য খানিকটা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি। ফিরেন ১১ বলে ১২ রান করে। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনফর্ম তাওহীদ হৃদয়ও এদিন দিতে পারেনি আস্থার প্রতিদান। পাঁচে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এই ফরম্যাটে ফিরেছেন দীর্ঘ প্রায় ১৮মাস পর।

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে সাবেক টাইগার অধিনায়ক শুরু থেকে আগ্রাসী ব্যাট করতে থাকেন। রিয়াদ একপ্রান্তে আগ্রাসী ব্যাট করলেও, অন্যপ্রান্তে শান্ত ওয়ানডে মেজাজে তুলতে থাকেন রান। টাইগার অধিনায়কের এমন ব্যাটিংয়ে ক্রমশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকেন বাংলাদেশ। ২৩ বলে শান্ত ফিরেন ২০ রানে। এরপর রিয়াদকে সঙ্গ দেন জাকের আলি। 

এই দু'জনের ব্যাটে দলীয় একশ পার করে বাংলাদেশ। লঙ্কান বোলারদের পিটিয়ে মাত্র ২৭ বলেই ফিফটি তুলে নেন রিয়াদ। এরপর অবশ্য সাজঘরে ফিরেন তিনি। ফেরার আগে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ১৮মাস পর দলে ফেরা রিয়াদ করেন ৩১ বলে ৫৪ রান। রিয়াদের বিদায়ের পর জিততে অবিশ্বাস্য কিছুই প্রয়োজন এদিন বাংলাদেশের। সে কাজটিই যেন করার দায়িত্বটা নেন জাকের।

প্রথমবার লাল সবুজ জার্সিতে খেলতে নামা জাকের শুরুর দিকে খানিকটা করেছেন সংগ্রাম। রিয়াদের বিদায়ের পরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। লঙ্কান বোলারদের উপর তাণ্ডব চালিয়ে, হারতে বসা ম্যাচে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান। তাতেই ম্যাচে ফিরতে থাকে বাংলাদেশ। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন শেখ মেহেদী। দু'জন মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন পঞ্চাশোর্ধ রানের জোট। 

২ চারে ১৬ রানে ফিরেন মেহেদী। অন্যপ্রান্তে ঝড় তোলা জাকের মাত্র ২৫ বলে তুলে নেন ফিফটি। জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১২ রানের। টান টান উত্তেজনার এই ম্যাচে ইনিংসের প্রথম ও তৃতীয় বলে বাংলাদেশ হারায় রিশাদ ও জাকেরের উইকেট। তাতেই শেষ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫ রান। স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা তাসকিন ব্যাটে-বলে ঠিকমতো কানেক্ট করতে না পারায় তীরে এসে ডুবে বাংলাদেশ। 

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০৩ রানে থামে বাংলাদেশ। ৪ চার ও ৬ ছক্কায় জাকের আলি করেন ৩৪ বলে ৬৮ রান। শ্রীলঙ্কার পক্ষে ২ উইকেট করে শিকার করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, দাসুন শানাকা ও বিনুরা ফার্নান্দো। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা, ইনিংসের প্রথম ওভারেই হারায় ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দোর উইকেট। এরপর কামিন্দু মেন্ডিসও ফিরে যান দ্রুত। পাওয়ার প্লেতে লঙ্কানদের দুই উইকেট তুলে খানিকটা ছেপেই ধরে টাইগার বোলাররা। তৃতীয় উইকেটে সফরকারীদের হাল ধরেন কুশল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাবিক্রমা। এই দু'জন মিলে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রাখেন।

দু'জন মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন পঞ্চাশোর্ধ রানের জোট। তাতেই দলীয় শতরানের গণ্ডি পার করে শ্রীলঙ্কা ২৮ বলে ফিফটি তুলে নেন কুশল মেন্ডিস। লঙ্কানদের ৯৬ রানের এই জোট ভাঙে মেন্ডিসের বিদায়ে। রিশাদের শিকার হয়ে ফেরার আগে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় কুশল মেন্ডিস করেন ৩৬ বলে ৫৯ রান। মেন্ডিসকে ফেরানোটাও এদিন যেন হিতে বিপরীত হয়েছে বাংলাদেশের জন্যই।

পাঁচ নম্বরে নামা লঙ্কান অধিনায়ক চারিত্র আসালাঙ্কা এদিন নেমেই তোলেন ঝড়। তাতেই সিলেটে রান উৎসব করে শ্রীলঙ্কা। ফিফটি তুলে নেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। ইনিংসের শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ২৪ রান খরচ করার কল্যাণে, দলীয় দুইশ পার করে থামে শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে সফরকারীরা সংগ্রহ করে ২০৬ রান। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। ৬ ছক্কায় ২১ বলে ঝড়ো ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন আসালাঙ্কা।

 

-নট আউট/টিএ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর

প্রথম ওয়ানডেতে হোঁচট খেল বিসিবি একাদশ

ভারতের এমএ চিরাম্বরম স্টেডিয়ামে সোমবার প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছিল তামিলনাড়ু ক্রিক...

ভারত সিরিজের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

জিম্বাবুয়ে সফরের দল থেকে বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক সৈকত, শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম।

জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে হেরে গেল বাংলাদেশ

৭৪ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানের টার্গেটেই কঠিন বানিয়ে ফেলে ভারত।