ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

হৃদয় জিতলেন সরফরাজ, ‘ড্র’ হলো করাচি টেস্ট

নট আউট ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী ২০২৩ ০৬:০০

টানা তিন হাফ সেঞ্চুরির পর সরফরাজের সেঞ্চুরির দেখা। গেটি ইমেজ টানা তিন হাফ সেঞ্চুরির পর সরফরাজের সেঞ্চুরির দেখা। গেটি ইমেজ

নট আউট ডেস্কঃ স্বাগতিক পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১৯ রানে। জিততে হলে তাই রেকর্ড গড়তেই হতো বাবর আজমদের। কেননা, এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে এতো বেশি রান তাড়া করে টেস্ট জয় পায়নি কোন দল৷ রেকর্ড রান তাড়া করতে নেমে চর্তুথ দিনে অবশ্য রানের খাতা খোলার আগেই ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

পঞ্চম দিনে দলীয় সংগ্রহ একশ পার করার আগেই হারায় আরও তিন উইকেট। তাতেই জয়ের স্বপ্নটা যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানের জন্য। এরপর প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সৌদ শাকিলকে নিয়ে পাকিস্তানকে ফের ম্যাচে ফেরান সরফরাজ আহমেদ। এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। তাতেই হারতে বসা ম্যাচে প্রাণ পায় পাকিস্তান।

জিততে হলে শেষ ১১ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৪৯ রান, হাতে ৪ উইকেট। এমন ম্যাচেই কিনা লাগাতার তিন উইকেট খুইয়ে পাকিস্তান পড়েছিল হারের শঙ্কায়। শেষ দিকে নাসিম শাহ'র ব্যাটে বাড়ে করাচি টেস্টের রোমাঞ্চ। তবে, জয় থেকে পাকিস্তান ১৫ রান দূরে থাকতেই (তিন ওভার বাকি) আলোকসল্পতায় ম্যাচ ড্র ঘোষণা করে দুই অনফিল্ড আম্পায়ার। ফলে দুই টেস্টের সিরিজ ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দু'দলকে।

৩১৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই ২ উইকেট হারিয়ে চর্তুথ দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান। পঞ্চম দিনের সাত সকালেই সাজঘরে ফিরেন ওপেনার ইমাম-উল-হক। ইশ সৌধির শিকার হয়ে ফিরেন ১২ রান করে। চর্তুথ উইকেট জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক বাবর আজম ও শান মাসুদ। 

ব্রেসওয়েলের জোড়া শিকারে দু'জনকেই ফিরতে হয় তিন রানের ব্যবধানে। বাবর ২৭ ও শান মাসুদ করেন ৩৫ রান। ৮০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া পাকিস্তানকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন সৌদ শাকিল ও সরফরাজ আহমেদ। এই দু'জনের দৃঢ়তায় প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করে পাকিস্তান। 

দু'জন মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন পঞ্চাশোর্ধ রানের জোট। সরফরাজ একপ্রান্তে রাখেন রানের চাকা সচল, অন্যপ্রান্তে শাকিল থাকেন মাটি কামড়ে। তাতেই দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তান হারায়নি কোন উইকেট। জয়ের জন্য শেষ সেশনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৪০ রান, অন্যদিকে জিততে হলে কিউইদের চাই ৫ উইকেট। 

চা বিরতির পর ফিরে অবশ্য শাকিলের উইকেট হারায় পাকিস্তান। ব্রেসওয়েলের শিকার হয়ে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান এই ব্যাটার ফিরেন ১৪৬ বলে ৩২ রান করে। এরপর আগা সালমানকে নিয়ে দলের হাল ধরেন সরফরাজ আহমেদ। কিউই বোলারদের দারুণ সামলে অভিজ্ঞ এই ব্যাটার তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। ২০১৯ সালের পর জাতীয় দলে ফিরেই টানা তিন ইনিংস হাফ সেঞ্চুরির পর, সরফরাজ প্রত্যাবর্তনটা রাঙান শতক হাঁকিয়েই।

শেষ বিকেলে জয়ের পাল্লাটা হেলে পড়েছিল পাকিস্তানের দিকেই। তবে কিউই বোলারদের নৈপুণ্যে ফের জমে উঠে ম্যাচ। শেষ বিকেলে সেঞ্চুরিয়ান সরফরাজকে ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করে কিউইরা। জয়ের লক্ষ্য থেকে পাকিস্তান ১৫ রান দূরে থাকতে, তিন ওভার বাকি থাকলেও আলোক সল্পতার কারণে ম্যাচ ড্র ঘোষণা করে দুই অন ফিল্ড আম্পায়ার।

৯ চার ও ১ ছক্কায় ১৭৬ বলে সরফরাজ করেন ১১৮ রান। আগা সালমানের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। শেষ দিকে চার-ছক্কায় ম্যাচ জমিয়ে তোলা নাসিম অপরাজিত থাকেন ১৫ রানে। কিউইদের পক্ষে ব্রেসওয়েল নেন ৪টি উইকেট। টিম সাউদি ও ইশ সৌধি নেন ২টি উইকেট করে।

 

-নট আউট/টিএ

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর

বাবরের বিশ্বরেকর্ড, রান পাহাড়ে চড়ল পাকিস্তান

আগা সালমানকে নিয়ে দিনের বাকিটা শেষ করেন বাবর আজম।

হৃদয় জিতলেন সরফরাজ, ‘ড্র’ হলো করাচি টেস্ট

জিততে হলে শেষ ১১ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৪৯ রান, হাতে ৪ উইকেট।

‘তিন’ সেঞ্চুরিতে পাল্টা জবাব পাকিস্তানের

১১৪ রানে শফিক ফিরলে ভাঙে ইমামের সঙ্গে ২২৫ রানের জুটি৷